জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলার ৭টি থানায় একযোগে অনুষ্ঠিত হলো সমাবেশ ও গণ মিছিল। এছাড়াও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।
সকল অনুষ্ঠান শেষে শহীদদের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় সংক্ষিপ্ত পরিসরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেই সাথে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল ছাত্র-জনতা কে পীর সাহেব চরমোনাই এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
এসময় ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ কুষ্টিয়া জেলার ৭টি থানায় আনন্দ মিছিলে অংশগ্রহণকারী বক্তারা বলেন, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেশকে দুঃশাসন, জুলুম ও ভোটহীনতার রাজত্বে নিমজ্জিত করে রেখেছিলো। তার নির্যাতন নিপীড়ন থেকে এদেশের গরিব মেহনতি মানুষ থেকে শুরু করে আলেম-ওলামারাও রক্ষা পায়নি। জুলাই-আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এদেশের ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে পতন ঘটিয়েছে। নতুনভাবে বাংলাদেশে স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার পতনের পর মানুষ যখন একটু স্বস্তি আশা করেছিলে, তখনই আরেকটি চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, লুটেরা গোষ্ঠী নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছে। তারাও আবার নতুন করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে লুটপাটে নেমেছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, কেউ যদি শেখ হাসিনার মতো অন্যায়কারী, গণবিরোধী, ফ্যাসিস্ট আচরণ করতে চায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও রাজপথে প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে। তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ বরাবরই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামী ভূমিকা পালন করে আসছে। দলটি কখনো কোনো সরকারের পদলেহন করেনি। বরং সত্য ও ইনসাফের কথা বলেই রাজনীতি করেছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দেশে যখন কেউ সাহস করে উচ্চকণ্ঠে কথা বলেনি, তখনও ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ রাজপথে ছিল, এখনও আছে, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে। ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, ইসলামি আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক দল নয়, এটা একটি আদর্শিক সংগ্রাম, যা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি সমাজব্যবস্থা কায়েমের জন্য অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।