বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা,লেখক ও সম্পাদক সাংবাদিক নেতা মনজুর এহসান চৌধুরীর জন্মদিন উপলক্ষে এক আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটার মধ্য দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, সাপ্তাহিক ইস্পাত পত্রিকার সম্পাদক ওয়াসিফ বারী চৌধুরী, ডিবিসি ও সমকাল এর প্রতিনিধি সাজ্জাদ রানা, নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রতিনিধি নুরুল কাদের প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বাজার গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়িক অংশীদার, শুভানুধ্যায়ী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে উপস্থিত বক্তারা মঞ্জুর এহসান চৌধুরীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন। তাঁরা বাজার গ্রুপের অগ্রযাত্রা ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর অবদান তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি ছিল আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যে পরিপূর্ণ। জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা স্মৃতিচারণ করেন এবং গ্রুপটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পুরো অনুষ্ঠানটির সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলো ক্যাফে বাজার (Cafe Bazar)। অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে ক্যাফে বাজারের ভূমিকার জন্য উপস্থিত অতিথিরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য যে, কুষ্টিয়ার প্রবীণ সাংবাদিক নেতা মনজুর এহসান চৌধুরী দীর্ঘ ১যুগ দেশের বাইরে! কুষ্টিয়ার ৮০দশকের দাপটে গণমাধ্যম সাপ্তাহিক ইস্পাতের সম্পাদক ও প্রকাশক প্রয়াত সাংবাদিক নেতা ‘ওলিউল বারি চৌধুরী’র বড় সন্তান – দৈনিক আন্দোলন বাজার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক “মনজুর এহসান চৌধুরী”। কুষ্টিয়া শহরের ধনাঢ্য এবং প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হবার পরও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতার রোষানলে পড়ে দেশ ছাড়তে হয় মেধাবী এবং সাহসী এই মহৎ মানুষটিকে। অনেকে তাকে Unipay to you (ইউনিপে-টু ইউ) এর মূল হোতা হিসেবে দাবি করেন, কিন্তু উনিও তখন একইভাবে এই কোম্পানি দ্বারা প্রতারিত হয়েছিলেন। গণমাধ্যমে তার প্রভাব থাকার কারণে সেসময় ওনার হাত দিয়ে ইউনিপে-টু ইউ-তে যাদের টাকা বিনিয়োগ হয়েছিলো,তাদের প্রায় সকলের অর্থই ফেরৎ দিতে পেরেছিলেন তিনি। কিন্তু বিধি বাম!সেই সৈরচার আওয়ামীলীগ নেতার আবদার ছিলো, ইউনিপে-টু ইউ থেকে তাকে ৪০ কোটি টাকা দিতে হবে। তিনি দিতে পারেননি। সেই নেতার অন্যায় আবদার না মেটাতে পেরেই দেশ ছাড়তে হয় তাকে।এদিকে স্ত্রী-সন্তান, পরিবার-পরিজন ও মাতৃভূমি ছেড়ে নির্বাসিত জীবন কতটা যন্ত্র’ণার,গত ১টি যুগ তিনি তা প্রতিটি মুহূর্তে সহ্য করেছেন। বড় ছেলে হিসেবে তিনি বাবার লাশটিও কাঁধে নিতে পারেননি! নির্বাসিত এই জীবনের মধ্যেও তিনি থেমে থাকেননি।এখনও চেষ্টা করে চলেছেন কুষ্টিয়ার মফস্বল সাংবাদিকতার পরিচর্যা করতে। আজ কুষ্টিয়ার গণমাধ্যম অঙ্গন যেভাবে কলুষিত হয়েছে, উনি থাকলে কখনোই এই অবস্থা হতো না! ৬০পেরিয়ে ৬১’তে পদার্পণ করলেন মনজুর এহসান চৌধুরী (মিঠু)। এদিকে সাংবাদিক নেতা মনজুর এহসান চৌধুরীর হাতে সাংবাদিকতার শিক্ষা নেওয়া প্রথমসারীর গণমাধ্যম কর্মীরা বলেন, ওনার জন্মদিনে আমাদের প্রত্যাশা- সকল ষড়’যন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে তিনি আমাদের কুষ্টিয়ার সন্তান হিসেবে আমাদের মাঝেই আবারও ফিরে আসবেন বলে আমরা আশাবাদী।