• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
কুষ্টিয়ায় ১১দলীয় ঐক্যজোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ইসলাম ধর্ম বিকৃতকারী কথিত পীর শ্রী শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন কুষ্টিয়ার তরুণ আলেম মরহুম জাহিদ হাসান স্বরণে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল কুষ্টিয়া কুমারখালীতে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা: এলাকায় চাঞ্চল্য ইমাম গাজ্জালী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার আয়োজন ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া শহর শাখার আয়োজন:ঐতিহাসিক বদর দিবস পালন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ ২জন ভারতে গ্রেফতার কুষ্টিয়ার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎএর অভিযোগ ইবি শিক্ষিকা হত্যা: মায়ের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে রাজপথে নাবালক ৪ সন্তান

ইসলাম ধর্ম বিকৃতকারী কথিত পীর শ্রী শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন

সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ, সম্পাদকীয় প্রতিবেদক: / ১৩৮ Time View
Update : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগে শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) এক কথিত পীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর হামলা মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত হন শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যান। সে সময় আস্তানায় থাকা কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা ফিরে গেছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকায় পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে সেখানে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।এই ঘটনার প্রায় একদিন হতে চললেও এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।রোববার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে দরবার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়।এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে এলাকার তৌহিদী জনতা অপরদিকে ভন্ড শামীম পীরের অনুসারীরা পাল্টাপাল্টি অবস্থান গ্রহন করছেন। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী আশংকা করছেন। জানা গেছে, কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে শামীম রেজা।শামীম পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ১৯৮৪ সালে ফিলিপনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। কুমারখালী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ভেড়ামারা কলেজ থেকে বিকম পাস করে পরবর্তীতে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এম কম পাস করেন।পড়ালেখা শেষ করে ঢাকার জিনজিরা এলাকায় একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন শামীম। পরবর্তীতে ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের গোলাম-এ-বাবা কালান্দার জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরীর মুরিদ হন । সেখানে খাদেম হিসেবে সেখানে বসবাস শুরু করেন। মুরিদ হওয়ার পর থেকে শামীম তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুজি করেও শামীমের সন্ধান লাভে ব্যর্থ হন।অবশেষে ২০০৭ সালে শামীম বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু সে বিয়ে ২-৩ মাসের বেশি টেকেনি। বছর দুয়েক আগে হঠাৎ করেই শামীম নিজ গ্রাম ইসলামপুর ফিরে আসেন এবং তার বাড়িতেই আস্তানা গড়ে তোলেন। সেখানে ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন।মুসলমানের সন্তান হিসাবে অমুসলিমদের সংস্কৃতি লালন ও পালন করার কারণে সে এলাকায় বিতর্কিত হয়ে ওঠে। ইসলাম ও শরীয়ত বিরোধী কর্মকান্ডের কারণে শামীম রেজা স্থানীয়ভাবে ভন্ড পীর হিসেবে আখ্যায়িত হয়। তাকে শামীম বাবা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি নিজেকে কখনও আল্লাহ, কখনও নবী বা ভগবান দাবি করেন। বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে তা প্রচার হওয়ায় এসব কর্মকান্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করতে থাকে।স্থানীয়দের দাবী,শামীম রেজা ইসলামবিরোধী বক্তব্য প্রচার করে আসছিলেন এবং নিজস্ব ব্যাখ্যায় ধর্মীয় বিধান তুলে ধরে অনুসারীদের বিভ্রান্ত করতেন। তিনি নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাতসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলো অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অনুসারীদের হজ পালনের জন্য মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি বাঁশ বাগানের দরবারে যাওয়ার নির্দেশ দিতেন। মক্কায় গিয়ে হাজরে আসওয়াতে চুমুর পরিবর্তে মহিলাদের গুপ্তাঙ্গে চুমু দেওয়ার হাকিকত বয়ান করতেন। এছাড়াও, তার অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী বিধান উপেক্ষা করে ঢাকঢোল বাজানো, ‘হরে শামীম’ ধ্বনি দেওয়া এবং বিভিন্ন অস্বাভাবিক আচারের প্রচলনের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী তার একটি ভিডিও বের করে তা দেখিয়ে জানান, ভন্ড শামীম আয়েশি ভঙ্গিতে ফুলের মালা গলায় দিয়ে চেয়ারে বসে আছেন। চারদিক থেকে তাকে ঘিরে রেখে নারী-পুরুষরা। নেচে-গেয়ে ‘হরে হরে, হরে হরে, হরে শামীম, হরে শামীম’ বলে সবাই চিৎকার করছেন। শামীম একটি বড় গামলায় দুই পা দিয়ে রেখেছেন। আর ভক্তরা দুধ দিয়ে তার পা ধুয়ে দিচ্ছেন, কেউবা চুমু খাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার হামাগুড়ি দিয়ে পায়ে মাথা ঠুকে তাকে সিজদা করছেন।এলাকাবাসী জানান, শামীমের পা ধোয়া দুধ তার অনুসারীরা রহমতের জন্য পান করে থাকেন।কেউ মারা গেলে তিনি ও তার অনুসারীরা ঢাক-ঢোল পিটিয়ে লাশ দাফন করেন। উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালের ১৬ মে রাতে পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মহাসিন আলীর কিশোর ছেলে আঁখি (১৭) ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ওই দিন রাতে শামীম তার অনুসারীদের নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে নেচে-গেয়ে আঁখির মরদেহ দাফন করেন। এ ঘটনায় এলাকার তৌহীদি জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় আলেম-ঈমাম-মুয়াজ্জিনদের নেতৃত্বে সমাবেশ আহ্বান করা হলেও পুলিশের আশ্বাসে তা থেমে যায়। সংশ্লিষ্ট এলাকার মুসলিম ও ইসলাম ধর্ম প্রসঙ্গে জানাশোনা ভালো এমন ব্যক্তিরা ঘুরছিলেন উপজেলা প্রশাসন আর দৌলতপুর পুলিশের দ্বারে দ্বারে।অবশেষে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বড় আইলচারা গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের পুত্র হক্কানী দরবারের পরিচালক খালিদ হাসান সিপাই বাদী হয়ে শামীমকে আসামি করে মামলা করেন। ২০২১ সালের ২৯ জুন কুষ্টিয়ার আদালতে পেনাল কোডের ১১৪/১৪৩/২৯৫ (ক)/২৯৮/৩৪১/৩৮৫/৪১৭/৫০৬(২) ধারায় মামলা হয়। কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক মামলাটি গ্রহন করে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার উপর ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। এরপর ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন এবং নিজেকে কথিত পীর দাবি করেন।এর পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ও নৈতিক অবক্ষয়ের অভিযোগও রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, গভীর রাতে তিনি তার নারী ভক্তদের নিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতেন এবং নেশাসদৃশ আচরণ করতেন। স্থানীয়রা জানান, শামীমের ভক্ত-অনুসারীদের বেশির ভাগই অল্প বয়সী তরুণ-তরুণী। শামীম নিজে এবং তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন অনুসারী অশিক্ষিত এবং অল্প শিক্ষিত মানুষজনকে মগজ ধোলাই করে শিষ্যত্ব লাভে বাধ্য করেন। স্থানীয়দের মতে, তার প্রায় সব কর্মকান্ডই ছিল ভন্ডামির বহিঃপ্রকাশ, যা ধীরে ধীরে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করে। এর আগেও একাধিকবার এলাকাবাসী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তিনি প্রকাশ্যে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, যিনি কোরআন শরীফের তাফসীর লিখেছেন তিনিও মুর্খ এবং যারা পড়ে তারাও মুর্খ। এ কথা প্রচারের পরই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। যা পরিপেক্ষিতে এলাকাবাসী শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটায় বলে জানানো হয়।ঘটনার দিন সকাল থেকেই তার কর্মকান্ড নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে। এ মারধরের ঘটনায় শামীম নিহত হয় আহত হন প্রায় ৭ জন।এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিবেশ শান্ত করতে সেখানে ব্যাপক পুলিশ বিজিবি প্রশাসন মোতায়েন করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডি আইজি শেখ জয়নুদ্দিন, কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category