কুষ্টিয়ায় একসময়ের চরমপন্থী/সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে হত্যা , হত্যা চেষ্টা, চাঁদাবাজি সহ আইসিটি আইনে একাধিক মামলার আসামি মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল।
বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করে মূলধারার সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও মানহানির অভিযোগে ব্যাপক সমালোচিত মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সাংবাদিকতার ছত্রছায়ায় থেকে তার এই বেপরোয়া কার্যকলাপ কুষ্টিয়ার গণমাধ্যম অঙ্গনকে গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে।

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি ও কুষ্টিয়া জেলা ইউনাইটেড অনলাইন প্রেসক্লাবের কার্যালয়ে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আওয়ামী নেতা সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব ও তার সহ-সভাপতি মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েলের একসঙ্গে বৈঠকের ফাইল ছবি।
২০১৮ সালের ২২ জুলাই দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা মামলার এক আসামি আওয়ামী নেতা রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে সাংবাদিকতার আশ্রয় নেন মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল। প্রথমে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসির সহযোগী সদস্য এবং বিপ্লবের প্রতিষ্ঠিত কুষ্টিয়া জেলা ইউনাইটেড অনলাইন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মুন্সী শাহীন নিজের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পান।

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি ও কুষ্টিয়া জেলা ইউনাইটেড অনলাইন প্রেসক্লাবের আন্দোলন সংগ্রামে প্রথমসারিতেই অবস্থান মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল এর।
পরে আন্দোলনের বাজার পত্রিকায় “সাংবাদিকতা”র দীক্ষা নিয়ে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের প্রাথমিক সদস্যপদ নিলেও আচরণগত কারণে পরবর্তীতে তাকে বাদ দেওয়া হয়।
এরপর তিনি আওয়ামী নেতা সুফী ফারুক ইবনে আবু বকরের দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার ছত্রছায়ায় নতুন করে জায়গা করে নেন এবং নন মিডিয়া লিষ্ট খবরওয়ালা পত্রিকার পরিচয় ব্যবহার করে আবার কৌশলে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে সদস্য হন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের বিচারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিবৃতি প্রদান করে ১০২জন সাংবাদিক/ গণমাধ্যম সাক্ষ্যর করেছেন,সেই তালিকাভুক্ত এই দৈনিক খবরওয়ালা।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সদস্য এবং কুষ্টিয়া জেলার আহবায়ক সুফি ফারুকের মালিকানা পত্রিকা দৈনিক খবরওয়ালার ছত্রছায়ায় বর্তমানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নানানভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকা মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল।
অভিযোগ আছে, প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি আল-মামুন সাগরের আশ্রয়ে থেকে জুয়েল আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং এতে প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়। অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণের ভেতরে মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েলের নেতৃত্বে সাংবাদিক রফিকুল্লাহ কালবীর ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং প্রেসক্লাব ঘেরাওয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভায় মুন্সী শাহীনের সাধারণ সদস্যপদ সাময়িক স্থগিতের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়
এবং সভাপতি আল-মামুন সাগর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রকাশ্যে “দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে প্রশাসনকে সহযোগিতা” করার আশ্বাস দেন।
একই রাতে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবকে পরিচালনায় ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
তবে নেটিজেনদের একাংশের মতে, জনরোষ ঠেকাতে এসব পদত্যাগ ও বহিষ্কারের ঘোষণা ছিলো নিতান্তই “নাটকীয়” পদক্ষেপ; পরবর্তীতে দেখা যায়, আবু মনি জুবায়েদ রিপন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবারও দায়িত্বে বহাল থাকেন এবং হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি হয়েও মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল প্রেসক্লাবে যাতায়াত অব্যাহত রাখেন।
হামলার ফলে সাংবাদিক রফিকুল্লাহ কালবী গুরুতর অসুস্থ হয়ে খাদ্যনালি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী জীবন কাটাচ্ছেন, তরল খাবারও সুঁইয়ের মাধ্যমে দিতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে তার ওপর হামলার মামলার প্রধান আসামি মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন এবং মূলধারার সাংবাদিকদের যাবতীয় লেখালেখি বন্ধ করতে খোলাখুলি হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের দাবি।

কুষ্টিয়া জেলা ইউনাইটেড অনলাইন প্রেসক্লাবের পক্ষ্য তৎকালীন জেলার এসপি ও বর্তমানে জেলে থাকা এসপি তানভীর আরাফাতকে ফুল দেন লাল মার্ক করা ১নং সহ-সভাপতি আফরোজা আক্তার ডিউ, ২নং সহ-সভাপতি মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল।
এদিকে কুষ্টিয়া জেলার আরেকজন ক্লিন ইমেজের সাংবাদিক দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ তার পত্রিকা অফিস থেকে মোটরসাইকেল যোগে বাড়িতে যাওয়ার সময়, মোটরসাইকেলটি শহরের কুমকুম ফার্মেসীর সামনে থেকে আটক করে মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল ও তার দলবল, তারপর সাংবাদিক সাইফ উদ্দীন আল-আজাদকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করতে করতেই আবু মনি জুবায়েদ রিপনের বাসা বাড়িতে রিপনের নিজস্ব চেম্বারে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগর ও সাবেক সেক্রেটারি আবু মনি জুবায়েদ রিপন সহ প্রেসক্লাবের একাধিক নেতৃবৃন্দের সামনে লাথি ঘুষি সহ শারিরীকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে প্রেসক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি রিপন তার চেয়ার থেকে উঠে মুন্সী শাহীনকে বাঁধা প্রদান করে তার পাশের রুমে খবরওয়ালা পত্রিকা অফিসে ঢুকিয়ে দেন। এদিকে সাংবাদিক সাইফ উদ্দীন আল-আজাদকে শারিরীকভাবে নির্যাতন শেষে চা বানিয়ে খেতে দেন আবু মনি জুবায়েদ রিপন। এরপরে প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগর নরম ভাষায় সাংবাদিক আজাদকে বলেন,

কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগর
আজকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি, আপনার নিকট অনুরোধ রইলো এই বিষয়টা এখানেই ভুলে যান,কোন মানববন্ধন অথবা থানায় অভিযোগ করবেননা। সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে শ্রদ্ধা করে সাংবাদিক সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ নমনীয়তার পরিচয় দিয়ে চুপ হয়ে যান।

সাংবাদিক সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ।
এদিকে একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে সাংবাদিক সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ তার কর্মরত গণমাধ্যমে জেলাজুড়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশের যেরে, আবারও মুঠোফোনে এবং প্রকাশ্যে নানাভাবে ভয়ভীতি, হুমকি এবং সামাজিকভাবে ইমেজ নষ্টের চেষ্টা করে যাচ্ছেন মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল; এ সংক্রান্ত প্রমাণ, হুমকিমূলক বার্তা ও মানহানিকর পোস্টের বিষয়গুলো থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আকারে জমা দিয়েছেন সাংবাদিক সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ।
তবুও হুমকি ও অপপ্রচার বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে।
মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদরসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা চেষ্টা, চাঁদাবাজি, আইসিটি আইন এবং অন্যান্য ধারায় একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে বলে পুলিশের নথির তথ্য তুলে ধরেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। সাংবাদিক রফিকুল্লাহ কালবীকে হত্যা চেষ্টা মামলায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর মুন্সী শাহীন হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আবারও কুষ্টিয়ায় সক্রিয় হন এবং “সাংবাদিক” পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চলাফেরা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল মনে করে, ২০২০ সালের আগে তার জীবনী ও অপরাধ-ইতিহাস গভীরভাবে তদন্ত করলে আরও ভয়াবহ তথ্য সামনে আসবে।
অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় দৈনিক ভোরের দর্পণসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিক নেতা ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবের নিকট আশ্রয় নিয়েই তিনি সাংবাদিকতার মাঠে প্রবেশ করেন। সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবের সভাপতিত্বে পরিচালিত কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি’র সহযোগী সদস্য এবং কুষ্টিয়া জেলা ইউনাইটেড অনলাইন প্রেসক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ পদ সহ-সভাপতি হিসেবে ছিলেন মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল।
এদিকে মুন্সী শাহীনকে নিয়ে “দলভারী” করলেও পরবর্তীতে তাদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং সাংবাদিক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব নিজেই জুয়েলের অতীত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমে তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল “ভয়েস অফ কুষ্টিয়া” নামে ফেসবুক পেজ খুলে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ভিডিও তৈরি করে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সক্রিয় হন।
এই পেজ থেকে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর ভাষায় মানহানিকর কনটেন্ট প্রকাশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা হয় এবং সিআইডির হেফাজতে তার কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস রাখা আছে বলে উঠে এসেছে। পরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সুফী ফারুক ইবনে আবু বকরের সম্পাদিত স্থানীয় দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকায় ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেন মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল। যা নিয়ে কুষ্টিয়াজুড়ে আতঙ্কের কথা উল্লেখ করেছে একাধিক প্রতিবেদন ও ভিডিও। অভিযোগ অনুযায়ী, দৈনিক কালের কণ্ঠের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও কুষ্টিয়া জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তারিকুল হক তারিক,

হামলার স্বীকার -↓
কুষ্টিয়া জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার এবং দৈনিক এখন খবর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক তারিকুল হক তারিক।
দৈনিক জনকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি এম এ রাকিব,

হামলার স্বীকার-↓
দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি এম এ রাকিব।
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি মুস্তাফিজুর রহমান মুন্জু,

হামলার স্বীকার -↓
কুষ্টিয়া জেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি,
দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি মুস্তাফিজুর রহমান মনজু।
দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ,

হামলার স্বীকার-↓
দৈনিক গণকন্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার: সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ।
সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার দিগন্তের সামছুল হক রুবেল

হুমকির স্বীকার -↓
সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার দিগন্ত পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সামছুল হক রুবেল।
সহ একাধিক ক্লিন ইমেজের সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল ও তার অনুসারীদের নাম উঠে এসেছে। লালন একাডেমির এক অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতেও মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল ও কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের নেতা আল-মামুন সাগরের সঙ্গে মিলিতভাবে দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও কুষ্টিয়া জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তারিকুল হক তারিকের ওপর হামলা করে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করেন।
এইসব ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ বারবার প্রশাসনের নিকট নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাইলেও দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে প্রকৃত সাংবাদিকতার বদলে হাট-বাজার, ইটভাটা, বালু মহাল, লালনমেলা ইজারা ও বিভিন্ন ব্যবসায়িক আলাপ-আলোচনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এর প্রতিবাদে কুষ্টিয়ার প্রবীণ সাংবাদিক নেতা এবং জেলার প্রাচীন দৈনিক বাংলাদেশ বার্তার সম্পাদক আব্দুর রশিদ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রথমসারির বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার প্রায় ২৫ জন সিনিয়র সাংবাদিক একযোগে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব থেকে পদত্যাগ করেন এবং পুনরায় পুরোনো কুষ্টিয়া জেলা প্রেসক্লাবকে সক্রিয় করেন। 
এদিকে সাংবাদিক রফিকুল্লাহ কালবীর ওপর হামলার ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব এখন আয়নাঘর” আখ্যা দিয়ে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে; চায়ের দোকান থেকে ফেসবুক লাইভ, ইসলামিক মাহফিল—সর্বত্রই প্রেসক্লাবের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর নানা প্রশ্ন তুলছে সাধারণ মানুষ এবং তরুণ প্রজন্ম।
ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বদলি হয়ে নতুন কর্মকর্তারা দায়িত্ব নিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, নতুন প্রশাসন কি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে সাংবাদিকতার লাইসেন্স ব্যবহারকারী মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল এবং তার পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন, নাকি “সাংবাদিক” পরিচয়ের আড়ালে এ ধরনের তথ্যসন্ত্রাস অব্যাহত থাকবে।

সাংবাদিক রফিকুল্লাহ কালবীর উপরে বর্বরোচিত হামলার মামলায় প্রধান আসামী মুন্সী শাহীনকে গ্রেপ্তার ও খবরওয়ালা পত্রিকার ডিক্লেয়ারেশন বাতিলের জন্য স্বারকলিপি প্রদান
সচেতন মহল মনে করে, কাঙাল হরিনাথের জেলা হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়ায় মূলধারার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে সত্যভিত্তিক রিপোর্টিং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং হলুদ সাংবাদিকতা ও সন্ত্রাসী-ঘেঁষা তথাকথিত মিডিয়া কাঠামো পুরো অঞ্চলকে বিভ্রান্তির অন্ধকারে ঢেকে দেবে।