• মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভায় আহবায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ কুষ্টিয়ায় ১১দলীয় ঐক্যজোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ইসলাম ধর্ম বিকৃতকারী কথিত পীর শ্রী শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন কুষ্টিয়ার তরুণ আলেম মরহুম জাহিদ হাসান স্বরণে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল কুষ্টিয়া কুমারখালীতে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা: এলাকায় চাঞ্চল্য ইমাম গাজ্জালী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার আয়োজন ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া শহর শাখার আয়োজন:ঐতিহাসিক বদর দিবস পালন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ ২জন ভারতে গ্রেফতার কুষ্টিয়ার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎএর অভিযোগ

পদ্মা-গড়াইয়ে পানি বৃদ্ধি : বন্যার শঙ্কায় কুষ্টিয়াবাসী

সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ, সম্পাদকীয় প্রতিবেদক: / ২৯৮ Time View
Update : বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫

ভারতের উজানে ভারি বর্ষণ ও ফারাক্কার নেতিবাচক প্রভাবে কুষ্টিয়ায় পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি প্রতিদিন বাড়ছে। আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) পদ্মার পানি ১২.৮৯ সেন্টিমিটার এবং গড়াইয়ের পানি ১১.২৭ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপদসীমার মাত্র এক সেন্টিমিটার নিচে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন ১০-১৫ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে।
এই অবস্থায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। নদীতীরবর্তী এলাকা, বিশেষ করে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বহু রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানির নিচে চলে গেছে। এতে বন্যার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।
চরের নিচু জমিগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশুর খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকেই গরু-মহিষের বাথান ভেঙে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন। জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২.৭৯ সেন্টিমিটার, যা বুধবার বেড়ে ১২.৮৯ সেন্টিমিটারে দাঁড়ায়। এই পয়েন্টে বিপদসীমা নির্ধারিত হয়েছে ১৩.৮০ সেন্টিমিটার। একইভাবে গড়াই নদীর পানি মঙ্গলবার ছিল ১১.২৫ সেন্টিমিটার, বুধবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১.২৭ সেন্টিমিটারে। এখানকার বিপদসীমা ১২.৭৫ সেন্টিমিটার। চিলমারী ইউনিয়নের স্থানীয়রা জানান, পদ্মার পানি হঠাৎ করেই বাড়ছে। নিচু এলাকার গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে। উঠতি ফসল যেমন পাট, মরিচ ও ধান ডুবে গেছে। অনেক রাস্তাঘাট অচল হয়ে পড়েছে। উঠানেও পানি উঠে গেছে, ফলে গবাদিপশু পালন কঠিন হয়ে পড়েছে।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, পদ্মার পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। ঘরবাড়িতে এখনো পানি না উঠলেও সবাই কার্যত পানিবন্দি। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল জানান, নদীপারের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আবাদি জমি তলিয়ে গেছে, যা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করছে। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বলেন, চরের দুই ইউনিয়নের ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠেছে, ফলে সেগুলোর পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৌলতপুর ইউএনও আব্দুল হাই সিদ্দিকী জানান, চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় রাস্তা ও স্কুল পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুজ্জামান জাহিদ জানিয়েছেন, পদ্মা ও গড়াই নদীর পানি প্রতিদিন বাড়ছে, তবে এই পরিস্থিতি কতদিন থাকবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category