• সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৮:২২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভায় আহবায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ কুষ্টিয়ায় ১১দলীয় ঐক্যজোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ইসলাম ধর্ম বিকৃতকারী কথিত পীর শ্রী শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন কুষ্টিয়ার তরুণ আলেম মরহুম জাহিদ হাসান স্বরণে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল কুষ্টিয়া কুমারখালীতে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা: এলাকায় চাঞ্চল্য ইমাম গাজ্জালী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার আয়োজন ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া শহর শাখার আয়োজন:ঐতিহাসিক বদর দিবস পালন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ ২জন ভারতে গ্রেফতার কুষ্টিয়ার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎএর অভিযোগ

ডা.হোসেন ইমামের বাড়িতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস

সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ, সম্পাদকীয় প্রতিবেদক: / ৪৪৭ Time View
Update : শনিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫

গত ২৪ অক্টোবর ২০২৫ শুক্রবার কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসে ছিলো স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ পরীক্ষা। পরীক্ষার আগের রাতেই প্রায় ৪০জন প্রার্থীকে জেলার বিভিন্ন উপজেলা হতে জড়ো করে গভীর রাতে, কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসাপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. হোসেন ইমামের নিউ সান ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও পাশের একটি চারতলা ভবন এবং তার নিজ বাসায় নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে এবং সেই ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্র প্রার্থীদের মুখস্থ করিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে । গভীর রাতে তিনটি ভাড়াকৃত এ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি ও মোটর সাইকেলে করে এনে এসব পরীক্ষার্থীকে নিউ সান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশের চারতলা ভবনটিতে রাখা হয়। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওইসব পরীক্ষার্থীকে তার মাগুর মাছের পুকুর এলাকার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আসার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ডা. হোসেন ইমামের বড়ো ভাই নান্নু উপস্থিত থেকে নিউ সান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম ও বিশ্বস্ত কর্মচারী সুরুজের মাধ্যমে করা হয়। এভাবে নিয়োগ বাণিজ্য করতে পরীক্ষার্থী প্রতি ১৬-২২ লক্ষ টাকায় চুক্তি করা হয়। দুইটা ব্যাংক চেক ও তিনটা ১০০ টাকার স্ট্যাম্প জমা রেখে এসব পরীক্ষার্থীকে ফাঁসকৃত প্রশ্ন পড়ানো হয় বলে নাম পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেন। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় সিভিল সার্জনের নির্ধারিত শহরের কেন্দ্রগুলোতে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসে স্বাস্থ্য সহকারীর ১১৫ টি পদে বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গোপন সূত্রের মাধ্যমে এ্যাম্বুলেন্স যোগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কুচিয়ামোড়া ও ভেড়ামারা উপজেলার পরানপুর এলাকা থেকে সিভিল সার্জন অফিসে স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগ প্রত্যাশী পরীক্ষার্থীদের এনে ফাঁসকৃত প্রশ্ন পড়ানো অথবা গোপনে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে তথ্য পায় টিম ‘আপডেট কুষ্টিয়া’। এর প্রেক্ষিতে টিম ‘আপডেট কুষ্টিয়া’র সদস্যরা দৌলতপুর, ভেড়ামারা, মিরপুর, ত্রিমোহনী, মঙ্গলবাড়িয়া, মজমপুর, বটতৈল মোড় হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি স্থানে অবস্থান নেয়। সূত্রের তথ্যানুযায়ী এ্যাম্বুলেন্স এসে থামে নিউসান ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও পার্শ্ববর্তী নিউরন কোচিং সেন্টারের গলির মধ্যে। প্রথমে সেখানেই ১০/১২ জন পরীক্ষার্থী অত্যন্ত গোপনে নামিয়ে পাশের চারতলা ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সকাল ৬:১০টা থেকে ৬:২০ টার দিকে তাদের ডা.হোসেন ইমামের বাড়ির উদ্দেশ্যে বের করে দেওয়া হয়। নিউসান ডায়াগনস্টিকের ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম এক নারী পরীক্ষার্থীকে তার বাইকে করে নিয়ে যান। বাকিরা পায়ে হেঁটে যান। এর কিছুক্ষণ পরে পরীক্ষার্থী বহনকারী আরেকটি এ্যাম্বুলেন্স এসে হাজির হয়। কিন্তু প্রতিবেদকদের চোখ ফাঁকি দিতে ওই এ্যাম্বুলেন্সের পরীক্ষার্থীর নিউসানে না নামিয়ে কলেজ মোড়-পুরাতন কাটাইখানা মোড়-জামতলা মোড় ঘুরিয়ে মাগুর মাছের পুকুর এলাকায় ডা. হোসেন ইমামের বাড়ির সামনে আনা হয়। জামতলা মোড় থেকে একজন পরীক্ষার্থীকে এ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এরপর ডা. হোসেন ইমামের বাড়ির প্রধান ফটক (গেট) খুলে এ্যাম্বুলেন্স থেকে প্রবেশপত্র হাতে বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে তার বাসায় ঢুকতে দেখা যায়। এসময় ডা. হোসেন ইমামের বড়ো ভাই নান্নু ওই শিক্ষার্থীদের সাথে উপস্থিত ছিলেন। এ দৃশ্যটি টিম ‘আপডেট কুষ্টিয়া’ গোপন ক্যামেরায় ধারণ করেন। পরে আরও কয়েকটি গণমাধ্যমের কর্মীরা ওই বাড়ির সামনের গলিতে মারুফ হোসেন (রোল: ২৪১৭১১০০০৩৫) নামে একজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রবেশ পত্র, আবেদনপত্র সহ অন্যান্য কাগজপত্র নেওয়ার সময় নান্নু ধরা পড়ে। এসময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আত্মীয় বলে পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিচয় দেন। এরপর থেকে টিম ‘আপডেট কুষ্টিয়া’ সহ অন্যান্য গণমাধ্যম কর্মীরা অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত নান্নু প্রতিবেদকদের সাথে তর্কে জড়ানোর চেষ্টা করেন। এবং বিভিন্ন লোকজন ডেকে আনাগোনা করাতে থাকে। তবে প্রতিবেদকরা সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সেখানেই অবস্থান করেন। এক পর্যায়ে পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসলে একজন,দুইজন করে পরীক্ষার্থীদের বাইরে বের করতে থাকেন। প্রতিবেদকরা তাদের সাথে কথা বলে পরীক্ষার্থী বলে নিশ্চিত হন। এর প্রায় ১৫ মিনিট পরে প্রায় এক ডজন পরীক্ষার্থীকে একসাথে বের করে দেন। পরীক্ষার্থীরা বের হয়ে সাংবাদিক দেখে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। কেউ কেউ দৌড়ে পালিয়ে যায়। তারপরও প্রতিবেদকরা কয়েকজন পরীক্ষার্থীর সাথে কথা বলতে সক্ষম হয়।এবং সবাই সিভিল সার্জন অফিসে স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ প্রত্যাশী পরীক্ষার্থী বলে নিশ্চিত হয়। তবে ভেতরে তাদের ফাঁসকৃত প্রশ্ন পড়ানো হয়েছে বলে নাম,পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানান এক পরীক্ষার্থী।এছাড়াও বেশ কয়েকটি গোপন সূত্রে জানা যায়, অনেক রুমে পরীক্ষার্থীরা অস্বাভাবিকভাবে কম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন ফেলে শুধুমাত্র উত্তরপত্রের বৃত্ত ভরাট করছিলেন। বেশকিছু পরীক্ষার্থী দেড় ঘন্টার পরীক্ষা আধা ঘন্টায় শেষ করেছেন বলেও সূত্রগুলো জানায়। অভিযুক্ত নান্নু প্রতিবেদককে জানান, তার আত্মীয় স্বজনরা তার বাসায় থেকে পরীক্ষা দিতে এসেছেন। কিন্তু এতো আত্মীয়-স্বজন একই চাকরির প্রার্থী হলো কিভাবে সে প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। এবিষয়ে জানতে প্রতিবেদক কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসাপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমামের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকার কল দিয়ে চেষ্টা করলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন (সিএস) শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি তার সাথে কথা বলার জন্য তার কার্যালয়ে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category