নিজস্ব প্রতিবেদক:
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) কুষ্টিয়া তামাক পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ ফ্যাক্টরিতে চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। চাকরিচ্যুত কিছু মৌসুমি শ্রমিক ও বহিরাগত একটি গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে – এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মহল কাজ করছে কিনা!
স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের আড়ালে কিছু ব্যক্তি বা সংঘ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ফ্যাক্টরির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থির করে তোলার পাঁয়তারা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মৌসুমি শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাগোরে জোর কইরা নিয়া আসছে ভাই। যা হুকুম হইছে তাই করতে হইছে, না করলে সমস্যা হইতো।‘
সূত্রমতে জানা যায়, কুষ্টিয়ার এই কারখানায় ২০২৪ সালেই ৮৩৪ কোটি টাকা সমমূল্যের রপ্তানিযোগ্য তামাক প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে। এই ধরনের উৎপাদন কার্যক্রমের মাধ্যমে কারখানাটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চলতি বছরেও আন্তর্জাতিক বাজারে তামাকের চাহিদা অব্যাহতভাবে বেড়েছে। এমন একটি সময়ে কারখানায় আন্দোলনের মত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই ১২৮ জন প্রশিক্ষিত শ্রমিক মৌসুমি শ্রমিকদের জন্য জারি করা কলআপ নোটিশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করেছেন এবং যোগদানের আগে প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছেন। অথচ এরই মাঝে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।
কুষ্টিয়ার তামাক চাষিরা দীর্ঘদিন ধরেই এই ফ্যাক্টরিটির ওপর নির্ভরশীল হয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। যেখানে তারা অন্যান্য ফসলের দাম পান না, সেখানে তামাক চাষ করে স্থিতিশীল আয় নিশ্চিত করতে পেরেছেন। ফলে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি স্থানীয় কৃষকদের অনেকটাই উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কৃষক জিন্নাহ আলী বলেন, ‘এই ফ্যাক্টরিতে তামাক না বানাইলে কোম্পানি কিনবে কেমনে? আর কোম্পানি না কিনলে, আমরা যে তামাক ফলাইছি, তা লইয়া যামু কই? তামাক ঘরে থুইলে সব তো নষ্ট হইয়া যাইব!’
এমন কারখানা শুধু রপ্তানিমুখী অর্থনীতির অংশ নয়, বরং কৃষিজীবী মানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভিত্তি। এই প্রেক্ষাপটে, কুষ্টিয়ার মত শিল্প ও কৃষিনির্ভর অঞ্চলে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়ে ফ্যাক্টরির কার্যক্রম ব্যাহত হলে তা কারো জন্যই সুফল বয়ে আনবে না। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অশান্তির আড়ালে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা থাকলে তা রোধ করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন, কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্বশীল ও সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল এই পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।