কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছাত্রাবাসে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা হোস্টেল পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবিতে কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ শাখা। রবিবার (২৭জুলাই) দুপুর ১২ টার দিকে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ রুহুল আমীনের কাছে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ শিবিরের নেতার্মীরা। গত ১৫ জুলাই রাতে ছাত্রাবাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বহিরাগত ছাত্রদের সাথে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে হঠাৎ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর কলেজ প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে, ফলে ১৬ জুলাই রাতের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হোস্টেল ত্যাগে বাধ্য করা হয়। বর্তমানে বহু শিক্ষার্থী আশ্রয় ও খাদ্যসংকটে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসনের প্রধান ভরসা হওয়া সত্ত্বেও ছাত্রাবাস বন্ধের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় তারা শিক্ষা কার্যক্রমে মনোযোগ হারাচ্ছে। একদিকে বাসা ভাড়া ও খরচ বহনের সামর্থ্য নেই, অন্যদিকে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপও বাড়ছে।
স্মারকলিপিতে তারা কলেজ প্রশাসনের প্রতি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছেন—১. তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক নিরীহ শিক্ষার্থীদের হোস্টেল পুনরায় খুলে দেওয়া। ২. পুরাতন পরিত্যক্ত হোস্টেল ভেঙে বহিরাগতদের অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা। ৩. নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের মাধ্যমে দূর-দূরান্ত থেকে আগত মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা। শিক্ষার্থীরা বলেন, হোস্টেল বন্ধের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে সময়োপযোগী হলেও পুনরায় চালুর ব্যাপারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি অনভিপ্রেত। তারা আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহের (১-৭ আগস্ট) মধ্যে ছাত্রাবাস চালুর জোর দাবি জানান। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও কুষ্টিয়া শহর শাখার এইচআরডি ও মিডিয়া সম্পাদক সাব্বির হোসেন, সরকারি কলেজ শিবিরের সভাপতি হাফেজ মুজাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি ওয়াশকুরুনি ফারাবিসহ কলেজের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।শিক্ষার্থীদের এ দাবিকে ঘিরে কলেজজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ছাত্রদের নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি।