ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন জনসাধারণ। শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর দুপুর আড়াইটায় কুষ্টিয়ার জনসাধারণের ব্যানারে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম এলাকা থেকে মিছিল বের হয়।এরপর মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মজমপুর গেটে এসে জড়ো হয়। মজমপুর ট্রাফিক অফিসের সামনে বসে অবস্থান নেন জনসাধারণ। মিছিলটিতে ধীরে ধীরে লোকসমাগম বাড়তে থাকে, এর কারণে মজমপুর মোড় থেকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও ঈশ্বরদী মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় বিক্ষোভকারীরা ভারত ও আওয়ামীলীগ বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি হাদি হত্যার বিচারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র ও আইন উপদেষ্টা যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রশাসনের মাধ্যমে তাদের আশ্বস্ত করবেন,ততক্ষণ পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য যে, কুষ্টিয়া শহরের উপজেলা মোড়ের বাসিন্দা জনপ্রিয় তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সাজিদ হাসান মাহি তার ফেসবুক পেইজ থেকে হাদি হত্যার বিচার চেয়ে, ৯০দিনের রিমাইন্ডার হিসেবে – প্রতিদিন সরকার প্রধান বরাবর দাবি পৌঁছানোর লক্ষ্যে ভিডিও বক্তব্যে হাদি হত্যার বিচার চান। মাহি বলেন সরকার যেহুতো ৯০দিনের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার কার্য সম্পন্ন করবেন বলেছেন। আমরা সামনে নির্বাচনের অসিলা হিসেবে কাল-ক্ষেপণ দেখতে চাইনা, আমরা হাদি প্রেমিরা এই ৯০দিনের প্রতিটা দিন দেশের নাগরিক হিসেবে জবাবদিহি করতে চাই রাষ্ট্রকে।অনতিবিলম্বে হাদি হত্যার বিচার করতে হবে। কুষ্টিয়ার তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মাহির এমন মনোভাবে অনেকেই উৎসাহিত হয়েছেন, এই উৎসাহী মনোভাবকে কাজে লাগাতে মাহি গত শুক্রবার রাতে ঘোষণা দেন, হাদি হত্যার বিচার চেয়ে সে একা দাঁড়াবে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের সামনে।
মাহি ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্যের মাধ্যমে তার সাথে যুক্ত হতে শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও আহবান জানান। বিষয়টি জুলাই যুদ্ধাদের নজরে পড়ে। শুরু হয় জনসাধারণের ব্যানারে আন্দোলন,এতে অংশগ্রহণ করেন কুষ্টিয়ার জুলাই যোদ্ধাদের নেতৃত্বানকারী সুলতান মারুফ তালহা, মুস্তাফিজুর রহমান সহ অসংখ্য জুলাই যুদ্ধা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর গণ। এসময় বিক্ষোভকারীদের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে মহাসড়কের দু’পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।এতে হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে, এতে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। পরে দুই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ শেষে কর্মসূচি প্রত্যাহার করলে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। বক্তারা বলেন, হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন বিভিন্ন পদ্ধতিতে ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।