• মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভায় আহবায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ কুষ্টিয়ায় ১১দলীয় ঐক্যজোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ইসলাম ধর্ম বিকৃতকারী কথিত পীর শ্রী শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন কুষ্টিয়ার তরুণ আলেম মরহুম জাহিদ হাসান স্বরণে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল কুষ্টিয়া কুমারখালীতে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা: এলাকায় চাঞ্চল্য ইমাম গাজ্জালী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার আয়োজন ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া শহর শাখার আয়োজন:ঐতিহাসিক বদর দিবস পালন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ ২জন ভারতে গ্রেফতার কুষ্টিয়ার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎএর অভিযোগ

সন্ত্রাসী মুন্সী শাহিন আহমেদ জুয়েল এর উত্থান

সম্পাদকীয় প্রতিবেদক: / ৭০৩ Time View
Update : বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫

সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা কিন্তু কিছু কথিত সাংবাদিকদের কারণে এই পেশাটির সম্মান আজ ক্ষুন্ন হতে চলেছে।এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত, ফকির লালনের ভূমি কুষ্টিয়াতে অপসংবাদিকতার নামে শহর থেকে শুরু করে গ্রাম অঞ্চল পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিছু নামধারী কথিত সাংবাদিক। আর এদেরকে নেতৃত্ব দিচ্ছে একসময়ের চরমপন্থী দলের সক্রিয় সদস্য মুন্সি শাহীন আহমেদ জুয়েল।

কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানাধীন নলকোলা গ্রামের মুন্সি মকলেছুর রহমানের সন্তান মুন্সি শাহীন আহমেদ জুয়েল এক সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানের ভয়ে আরব রাষ্ট্র “কাতার” চলে যায়। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকলেও তিনি আদম ব্যবসা বা মানব পাচারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এবং আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন বিভিন্ন আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্বাসে তিনি দেশে চলে আসে। সেই সময়ের চরমপন্থী ট্যাগ বা মানব পাচারের অভিযোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য যুক্ত হন সাংবাদিকতায়। কিন্তু “চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী” এই প্রবাদটির মতো তিনিও সাংবাদিকতা পেশাকে কলঙ্কিত করার জন্য গায়ে সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে থাকে তথ্য সন্ত্রাসী হিসাবে। আর এ কারণেই ভয়েস অফ কুষ্টিয়া নামে ফেসবুকে একটি অনলাইন পেইজ খুলে বসে। আর এই অনলাইন পেইজের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গদের বিরুদ্ধে মানহানিকর সংবাদ প্রচার করতে শুরু করে, এ কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আইসিটির একাধিক মামলাও হয়েছে তার নামে। বাংলাদেশ পুলিশের নথিতে মুন্সির শাহিন আহমেদ জুয়েল এর নামে সর্বমোট চারটা মামলার তথ্য পাওয়া যায়, তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য কুষ্টিয়া সদর থানায় দায়েরকৃত আইসিটি মামলা, হত্যার চেষ্টার মামলা সহ একাধিক মামলার আসামি তিনি।

মুন্সী শাহিন আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে, তিনি একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। কুষ্টিয়ার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী চাকি বাবুর সঙ্গে রয়েছে তার বিশেষ সখ্যতা এবং মাদক গ্রহণের আড্ডা খানা কুষ্টিয়া জেলার রেল স্টেশন সুইপার পট্টিতে রাতের বেলায় মাদকাসক্ত অবস্থায় তাকে নিয়মিত দেখা যায়।তিনি জেলার বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা উত্তোলন সহ ফ্রিতে মাদকের লেনদেন করে। আরো অভিযোগ আছে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা সহ ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে মিথ্যা সংবাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়। যার তথ্য জেলার অনেক সাংবাদিক সহ একাধিক ব্যক্তির জানা আছে। এবং তার এই সমস্ত কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তার উপর হামলা,মিথ্যা সংবাদসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে কথিত সাংবাদিক মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক বলেন, মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল এক সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এবং গত বছরের ৫ই আগস্ট এর পরে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সুফি ফারুকের স্থানীয় দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে হাই স্কুলের গণ্ডি না পেরোনো মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল। এবং এই পত্রিকায় দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে যায়। অভিযোগ আছে, জেলার একজন সিনিয়র সাংবাদিক নেতা দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও কুষ্টিয়া জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তারিকুল হক তারিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ও ব্যাপক মারধর করে এই মুন্সি শাহিন আহমেদ জুয়েল। আরও জানা যায়, বিভিন্ন সাধারণ মানুষ সহ সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কে আওয়ামী লীগপন্থী বলে মব তৈরির মাধ্যমে হামলা ও নির্যাতন করে তিনি। আর একই চিত্র দেখা যায় গত ৬ তারিখে কুষ্টিয়া জেলার একজন জনপ্রিয় কন্টেন ক্রিয়েটর ও দৈনিক কুষ্টিয়ার খবর পত্রিকার সহ-সম্পাদক রফিকুল্লাহ কালবিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে ধরে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারপিট করে এবং পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করে, কিন্তু তার অবস্থা অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়। সাংবাদিক রফিকুল্লাহ কালবির অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ বিষয়ে রফিকুল্লাহ কালবির স্ত্রী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দোসর মুন্সী শাহিন আহমেদ জুয়েল কালবিকে নানাভাবে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।যা কালবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখে ও লাইভ ভিডিও করে পোস্ট করে। এরপর রাতে কালবিকে পরিকল্পিতভাবে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে তুলে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্যাতন করে। হাসপাতালে কালবি সাংবাদিকদের বলেন, মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েলের নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাকে নির্যাতন করে। মুন্সী শাহিনের এমন কর্মকান্ডে হতভাগ জেলার সাংবাদিকরা, তারা বলেন এই সমস্ত ব্যক্তিদের কারণে আজ সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করি আমরা। তার এমন কর্মকাণ্ড অবশ্যই নেককারজনক এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি আমরা।

মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ী দাতা হিসাবে কে আছে জানা তা অনুসন্ধান করতে গেলে দেখা যায় কতিপয় রাজনৈতিক নেতা ও কিছু কার্ডধারী সাংবাদিক  ওতপ্রোতভাবে মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েলকে আগলিয়ে রূখছে। এবং মুন্সী শাহীন সেই সিন্ডিকেট টি কাজে লাগিয়ে সেই রাজনৈতিক গ্রুপের বাইরে যারা রাজনীতি করে এবং সাংবাদিক গ্রুপের বাহিরে যারা সাংবাদিকতা করে কুষ্টিয়াতে, তাদেরকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে মামলা বাণিজ্য ও চাঁদাবাজীতে লিপ্ত ছিলো। এছাড়াও তাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা ও প্রোপাগান্ডা ছড়াতো ফেসবুক লাইভ এর মাধ্যমে এই মুন্সী শাহিন আহমেদ জুয়েল।

মুন্সী শাহিন আহমেদ জুয়েল এর এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কুষ্টিয়ার সদর মডেল থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য না পাওয়া গেলেও তারা বলেন, রফিকুল্লাহ কালবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুন্সী শাহিন আহমেদ জুয়েলের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category