• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
আসছে নাগরিক সমাবেশ: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়ার পরামর্শ সভা Alle Nederlandse Casinos: Jouw Volledige Handleiding voor Wettelijk Online Gokken Complete lijst Holland Casinos: Jouw Complete Handleiding voor Wettelijk Online Kansspelen আইনুদ্দীন আল-আজাদ রহ. স্মরণে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জমি লিখে নিতে বৃদ্ধা মাকে নির্যাতন: শিক্ষক ছেলেসহ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা ‘ইউনিশপার’ কি ‘ইভ্যালি’র প্রতারণার পথে? পল্লবীতে তিতাসের নতুন সাম্রাজ্য! কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভায় আহবায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ কুষ্টিয়ায় ১১দলীয় ঐক্যজোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ইসলাম ধর্ম বিকৃতকারী কথিত পীর শ্রী শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন কুষ্টিয়ার তরুণ আলেম মরহুম জাহিদ হাসান স্বরণে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল

সংসদীয় আসন নয়, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ 

সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ, সম্পাদকীয় প্রতিবেদক: / ২৮৪ Time View
Update : বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এদেশের রাজনীতিতে ব্যাতিক্রম উদাহরণ সৃষ্টি করে আসছে। সে হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কখনোই সংসদের আসন পাওয়ার জন্য অতীতে আদর্শকে জলাঞ্জলি দিয়ে নীতিহীন রাজনীতি চর্চা করেনি। সন্ত্রাস, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, স্বজনপ্রীতি, চাঁদাবাজি, কালো টাকার ছড়াছড়ি, পেশীশক্তির ব্যবহার ও সত্য মিথ্যা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে কোনো দলের সহযোগিতা নিয়ে কয়েকজন সংসদ সদস্য পদ পাওয়ার রাজনীতি শুরু থেকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে পীর সাহেব চরমোনাই’র নেতৃত্বে পরিচালিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চায় পরিচ্ছন্ন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা। যে রাজনীতিতে থাকবে মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ ও অধিকার। সাধারণ মানুষকে রাজনীতিবিদদের চাঁদা দিতে হবে না। সামান্য নাগরিক অধিকারের জন্য কোন রাজনৈতিক নেতা তো দূরে থাক অফিস আদালতের কোন কর্মচারীকে ঘুষ দিয়ে কাজ করতে হবে না। সাধারণ মানুষের এমন স্বপ্ন বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পথচলায় ২০২৪ এর জুলাইয়ের পরে মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার একটি সুযোগ হিসেবে কাজ করছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যদি সংসদে দলীয় প্রতিনিধি পাঠানো আর মন্ত্রী পরিষদের ভাগ পাওয়া, টয়লেট, ফুটপাত, বাসস্ট্যান্ড দখল,আর টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করতে চাইতো তবে তা করার অনেক সুযোগ তাদের হাতে ছিলো। কিন্তু এগুলোকে সব সময় ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। সব বাদ দিয়ে ১৯৯৯ এ ৪ দলীয় জোট গঠনের সময়ে এমপি ও মন্ত্রীত্ব পাওয়ার সুযোগ ছিলো। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (তৎকালীন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন) এর আমীর মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই রহঃ তখন স্পষ্ট বলেছেন, “ইসলামের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে দলের গুটিকয়েক নেতাকে এমপি-মন্ত্রী বানানোর রাজনীতি আমরা করবো না।” আপনারা কমপক্ষে বলুন-আমরা সরকার গঠন করলে ইসলাম বিরোধী কোন আইন করবো না আর ইসলাম বিরোধী যে সকল আইন আছে তা পর্যায়ক্রমে বাতিলের উদ্যোগ নিবো।” তাতেই চলবে আমাদের কোনো আসন দিতে হবে না। ইসলামের এই স্বার্থ আদায়ে আমরা আপনাদের জোটের পক্ষে কাজ করবো।

কিন্তু তৎকালীন ৪ দলীয় জোটের প্রধান দল বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব জনাব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া সাহেব তা করতে পারেন নি। বরং জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমরা ক্ষমতার রাজনীতি করি আদর্শের রাজনীতি করি না। আপনারা ক্ষমতার অংশীদারিত্বে আসলে আসতে পারেন। আপনার আদর্শ আমরা বাস্তবায়ন করতে পারবো না। যে কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তৎকালীন ৪ দলীয় জোটের সাথে জোটবদ্ধ না হয়ে আদর্শের রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে ইবাদাতের রাজনীতি করে আসছে। ব্যাতিক্রম একটি ছিলো ঢাকার নবাবগঞ্জে সালমান এবং রহমান ও ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা’র আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী প্রত্যাহার করা নিয়ে। ২০০১ এর নির্বাচনের সময়ে ঐ আসন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জনাব মিজানুর রহমান মিলন কে নির্বাচন থেকে প্রত্যাহার করানোর জন্য দুই প্রার্থীই স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, দলীয় প্রার্থীর মাধ্যমে পীর সাহেব চরমোনাই’র সাথে যোগাযোগ করতে থাকে। এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা সাহেব পীর সাহেব চরমোনাই’র সাথে সাক্ষাৎ করে ঘোষণা করেন তিনি যদি নির্বাচনে জয়লাভ করেন তবে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর তৎকালীন ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে বাইরে ভূমিকা রাখবেন। সে অঙ্গীকারের উপর বিশ্বাস করে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের নির্বাচন থেকে দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করা হলেও ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা সাহেব সে অঙ্গীকার পূরণ করেননি।

বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে প্রতিটি নির্বাচনের সময়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় দল থেকে ভালো ভালো প্রস্তাব আসলেও ইবাদাতের রাজনীতি আদর্শচ্যুত হয়নি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বতন্ত্র অবস্থান ধরে রেখে আজ পর্যন্ত লড়াই করে যাচ্ছে। ২০২৪ এর ৭ জানুয়ারীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোর জন্য আওয়ামী লীগ বিরোধীদল বানানোর প্রস্তাব দিয়েছিলো কিন্তু সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পীর সাহেব চরমোনাই নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। উল্লেখ করা যেতে পারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব কারাগারে থাকাকালীন দলের মিডিয়া সেলের একজনকে নিশ্চিত করে বলেছিলেন তুমি নিশ্চিত থাকো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।

দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, স্বজনপ্রীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বৈষম্যহীন, মানবাধিকার রক্ষায় মানবিক বাংলাদেশ গড়তে একযোগে দলের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই ও সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই দেশব্যাপী গণমানুষকে সম্পৃক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।

তবে একটি কথা হলো যদি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ আয়োজনে সরকার এবং নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করে পেশীশক্তির ব্যবহার ও কালোটাকা বন্ধ করতে পারলে প্রমাণ হবে, কোন দল কত আসন পায়। অবশ্যই গণমাধ্যমকে ও লেভেল প্লেইং ফিল্ড এর আওতায় আনতে হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category