• মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভায় আহবায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ কুষ্টিয়ায় ১১দলীয় ঐক্যজোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ইসলাম ধর্ম বিকৃতকারী কথিত পীর শ্রী শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন কুষ্টিয়ার তরুণ আলেম মরহুম জাহিদ হাসান স্বরণে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল কুষ্টিয়া কুমারখালীতে সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা: এলাকায় চাঞ্চল্য ইমাম গাজ্জালী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার আয়োজন ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া শহর শাখার আয়োজন:ঐতিহাসিক বদর দিবস পালন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়া জেলা শাখার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালসহ ২জন ভারতে গ্রেফতার কুষ্টিয়ার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আজাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎএর অভিযোগ

শিশু আব্দুল্লাহকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা; পুলিশের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট পরিবার

এ এম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া / ১৮৩ Time View
Update : শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫

গত বছরের ৫ আগস্ট বেলা ২টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার সামনে আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল ১৩ বছর বয়সী শিশু আব্দল্লাহ। সেখানেই তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। আব্দুল্লাহ শহরের চর থানাপাড়া এলাকার লোকমান হোসেনের ছেলে। কষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস গেট সংলগ্ন চায়ের দোকানে বাবার সঙ্গে কাজ করত সে। তবে তাই স্বজনদের আক্ষেপেরও শেষ নেই। আব্দুল্লাহর বাবা লোকমান হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘ছেলে জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগ করল। কিন্তু এক বছর হতে চলল, হত্যার বিচার পাইলাম না। আমার ছেলেকে হাজার হাজার মানুষের সামনে কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই সাহেব আলী গুলি করে হত্যা করেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা এখনো কীভাবে চাকরি করেন জানি না। ওই ঘটনায় এসআই মুস্তাফিজও জড়িত ছিল।’ তিনি বলেন, এসআই সাহেব আলীর ফাঁসি চাই। প্রকাশ্যে মার্ডার করে এখনো কীভাবে এসআই সাহেব আলী ও এসআই মুস্তাফিজ চাকরি করে? লোকমান হোসেন বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো আগ্রহই লক্ষ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, অসুস্থ থাকায় আমি ওইদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। আমার ছেলে আব্দুল্লাহও হাসপাতালে আমার কাছে ছিল। সে ভাত খাওয়ার কথা বলে হাসপাতাল থেকে বের হয়। এরপর কুষ্টিয়া মডেল থানার সামনে আন্দোলনে যুক্ত হয়। আন্দোলনরত অবস্থায় আমার ছেলেকে ধরে দুই হাত মুচড়ে ভেঙে দিয়েছিল এসআই সাহেব আলী। এরপর বুকে গুলি করে হত্যা করে। আওয়ামী লীগের হানিফ এমপি ও তার ভাই আতার নির্দেশে এসআই সাহেব আলী আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করে। সাহেব আলী আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচার গুলি চালিয়েছে। তার গুলিতে অনেকে আহত এবং নিহত হয়েছেন। সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি, দ্রুত যেন এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়। আব্দুল্লাহ হত্যার ঘটনায় ১৫ আগস্ট রাতে কুষ্টিয়া মডেল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিসহ মোট ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ১০০-২০ জনকে। মামলার বাদী আব্দুল্লাহর বাবা লোকমান হোসেন। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। এ সময় দলীয়ভাবে মামলাটি করা হয়েছিল। যার কারণে মামলায় কাদের আসামি করা হয়েছিল, আমি জানতাম না। তবে সে মামলায় আসামি হিসাবে এসআই সাহেব আলীর নাম ছিল না। পুলিশ তাকে আসামি করতে দিচ্ছিল না। এরপর ট্রাইব্যুনাল থেকে লোক এসেছিল। তাদের কাছে চারজনকে আসামি করে মামলা করেছি। এসআই সাহেব আলী, আওয়ামী লীগের এমপি হানিফ, তার ভাই আতা ও মানব চাকির নামে অভিযোগ দিয়েছি। কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি মোশাররফ হোসেন বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আব্দুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category