গত বছরের আলোচিত সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় আসা আরএমও ডা. হোসেন ইমাম এবার রাজনৈতিক আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা শাখা ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম।
উল্লেখ্য, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১১৫টি শূন্য পদে নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ব্যাপক নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। পরীক্ষার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে একটি বাড়িতে প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। অভিযোগ ওঠে, ওই বাড়িটি আরএমও ডা. হোসেন ইমামের। তবে তিনি শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে পরীক্ষার্থীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং পুনরায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশন বিষয়টি তদন্তে নেয়। তদন্ত প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে আলোচিত একজন কর্মকর্তা রাজনৈতিক দলের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—তদন্তাধীন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এমন প্রকাশ্য মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি কতটা সমীচীন।
তবে এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনুষ্ঠানটি এনসিপির ব্যানারে হলেও জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। উপস্থিতদের বেশিরভাগই ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে ডা. হোসেন ইমামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, নিয়োগ-বাণিজ্যের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণই জনমনে আস্থা ফেরানোর একমাত্র পথ।