কুষ্টিয়া জেলায় ২৪এর জুলাই আন্দোলন ও ৫ই আগষ্ট গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের মাগফিরাত কামনা ও আহতদের সুস্থতা কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা নিহত যোদ্ধাদের শহীদী মর্তবা দেওয়ায় জন্য আল্লাহ তায়ালার দরবারে প্রার্থনা করেন, তারা বলেন দেশের জন্য এ যুদ্ধ, জালিম মুক্ত দেশ গড়তেই এ অভ্যুত্থান হয়েছিলো, সুতরাং দেশের জন্য জীবন দিলে তাদেরকে মৃত বলোনা, শহীদ বলতে হবে। ২৫/০৭/২০২৫ইংঃ শুক্রবার বিকাল ৪টায় আল-খিদমাহ্ অর্গানাইজেশনের আয়োজনে, কুষ্টিয়া শহরের (জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান) ৬রাস্তার মোড় থানাপাড়ায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় দ্বীনি দায়িত্ব ও মুসলিম পরিচয়ের জায়গা থেকে চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতদের জন্য মাগফিরাত, আহতদের জন্য সুস্থতা, পঙ্গুত্ব বরণকারী, নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য সবর ও তাওয়াক্কুল, ত|গুত হাসিনা ও ত|গুত হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়নকারীদের ‘যথাযথ বিচার’ একমাত্র মহান আল্লাহর নিকট কামনা করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতের পরিবার, আহত ও আহতের পরিবার, অংশগ্রহণকারী, আলিম উলামা ও থানাপাড়াবাসীর উপস্থিতিতে এ ‘আলোচনা সভা ও দু’আ মাহফিল’ করা হয়।
এসময় বক্তারা বলেন, তাগুত হাসিনার আওয়ামী জাহিলিয়াত আর বর্তমানে ইউনূসের ইন্টেরিম সরকারের মধ্যে মৌলিক কোনো পরিবর্তন নেই। উভয়েরই মূল কাঠামো হচ্ছে ইসলামহীন শাসনব্যবস্থা (সেক্যুলার ডেমোক্রেটিক শাসনব্যবস্থা, বিদেশী স্বার্থরক্ষা, মুসলিম কওমের রাজনৈতিক শক্তিকে দূর্বল ও দমন করা।
অতএব, আমরা গত জুলাই থেকে এই জুলাইয়ে অর্থাৎ এই এক বছরে বুঝতে পারি যে, শাসকের পরিবর্তনে মুক্তি নেই। মুক্তি মিলবে শাসনকাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমে। সাতচল্লিশ থেকে চব্বিশ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে কেবল। এদেশে তিনবার এমন আন্দোলন অভ্যুত্থান দেশের মানুষ দেকেছে, এরশাদ ও খালেদা জিয়া একইভাবে আন্দোলনের মুকে পড়েই ইতিপূর্বে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। আর
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান বা তাগুত হাসিনার পতন হচ্ছে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এই যমীনের কওমের অসম্পূর্ণ গণ-অভ্যুত্থান। এটা সুযোগ এনে দিয়েছে কাজে লাগাতে হবে। অসম্পূর্ণকে সম্পূর্ণ করা আমাদের সকলের জিম্মাদারি। মুসলিম হিসেবে আমাদের বিশ্বাস এই যে, ইসলাম ব্যতীত এই যমীনের কওমের মুক্তি নেই। ইসলামী শরীয়াহ ব্যতীত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। শহীদদের সাথে, শহীদ পরিবারের সাথে, আহত ও আহত পরিবারের সাথে, পঙ্গুত্ব বরণকারী ও জুলাইয়ে অংশগ্রহণকারী এই যমীনের কারো প্রতি ইনসাফ করা হয়নি। ‘জুলাই থেকে জুলাই’ যার বাস্তব ও চাক্ষুষ প্রমাণ।
প্রশ্ন হচ্ছে, আর কত কাল এই যমীনের মুসলিম কওম সেক্যুলার গণতন্ত্রের গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খেয়ে অর্থ, সময়, শ্রম, মেধা, রক্ত ও জীবন খোয়াবে? এমনিভাবে বক্তারা তাূের বক্তব্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে উপস্থিত জনগণের মস্তিষ্কে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়,যাতে আগামী দিনে দেশের মানুষের সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সুবিধা হয়। সর্বোপরি দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।