• রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০১:১০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
আসছে নাগরিক সমাবেশ: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুষ্টিয়ার পরামর্শ সভা Alle Nederlandse Casinos: Jouw Volledige Handleiding voor Wettelijk Online Gokken Complete lijst Holland Casinos: Jouw Complete Handleiding voor Wettelijk Online Kansspelen আইনুদ্দীন আল-আজাদ রহ. স্মরণে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জমি লিখে নিতে বৃদ্ধা মাকে নির্যাতন: শিক্ষক ছেলেসহ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা ‘ইউনিশপার’ কি ‘ইভ্যালি’র প্রতারণার পথে? পল্লবীতে তিতাসের নতুন সাম্রাজ্য! কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব কেপিসি’র বার্ষিক সাধারণ সভায় আহবায়ক কমিটির আত্মপ্রকাশ কুষ্টিয়ায় ১১দলীয় ঐক্যজোটের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ইসলাম ধর্ম বিকৃতকারী কথিত পীর শ্রী শামীম রেজার দাফন সম্পন্ন কুষ্টিয়ার তরুণ আলেম মরহুম জাহিদ হাসান স্বরণে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল

জমি লিখে নিতে বৃদ্ধা মাকে নির্যাতন: শিক্ষক ছেলেসহ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা

সাইফ উদ্দীন আল-আজাদ, সম্পাদকীয় প্রতিবেদক: / ১১৮ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় নিজের গর্ভজাত দুই ছেলে ও দুই পুত্রবধূর বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধা মাকে আটকে রেখে মারধর ও অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটি ও জমি ছেলেদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই এ নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মা।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. জাহানারা বেগম (৬৬) চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলি আদালত, সদর থানা) আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি সি.আর. নং-৬৯৮/২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আসামিরা হলেন জাহানারা বেগমের বড় ছেলে মো. জাব্বারুল হক রবিউল (৪৮), ছোটো ছেলে মো. হুমায়ন রশিদ জুয়েল (৪৫), পুত্রবধূ মোছা. কাজল নেহা (৪২) ও খাদিজা খাতুন (৩৯)। তারা সবাই চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের বাসিন্দা। জানা গেছে, মামলার আসামি মো. জাব্বারুল হক (রবিউল) নীলমনিগঞ্জ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, স্বামী মৃত আব্দুস সাত্তারের মৃত্যুর পর থেকে জাহানারা বেগম ছেলেদের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর রেখে যাওয়া জমি ও তার প্রাপ্য অংশ ছেলেদের নামে দলিল করে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাওয়া থেকেও বিরত রাখা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২০ মে বিকেল ৪টার দিকে তাকে মারধর করে বাড়ির দোতলার একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এরপর ২৪ মে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত টানা চার দিন তাকে অবরুদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়। এ সময় তার চলাফেরা, গোসল ও শৌচাগারে যাওয়ার ওপরও নজরদারি করা হয় এবং প্রয়োজনের তুলনায় অল্প খাবার দেওয়া হতো। প্রতিবাদ করলে হত্যাসহ গুমের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

জাহানারা বেগম বলেন, “আমার স্বামী জীবিত অবস্থায় আমার নামে কিছু জমি লিখে দিয়ে গেছেন। এছাড়া ওয়ারিশ সূত্রেও আমি জমি পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু আমার ছেলেরা সেই জমি দখল করে চাষাবাদ করছে। আমি জমি চাইলে তারা আমাকে মারধর করে এবং জমি তাদের নামে লিখে দিতে চাপ দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “ছেলে ও পুত্রবধূরা মিলে বাড়ি থেকে আমাকে বেড়করে দেয় তারপর গ্রামের একটি বাড়িতে চার থেকে পাঁচ মাস ভাড়ায় থাকি, কিছুদিন আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও আমার ছেলেরা জমি ফিরিয়ে দিবে ও সব কিছু মিমাংসা করে দিবে বলে বাড়ি নিয়ে আসে কিন্তু কোনো কিছুই দেয়নি। বাড়ি নিয়ে এসেই আবার নির্যাতন শুরু করে আমাকে ঠিক মতো খেতে দেয়না বাড়ির বাহিরেও যেতে দেয়না, ছোটো ছেলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং আমাকে বাড়ির মধ্যে আটকে রাখে। এসব আমি সহ্য করতে না পেরে চুরি করে মেয়ের কাছে ফোনদিয়ে বলি তুমি আমাকে বাঁচাও এবাড়ি থেকে নিয়ে যাও পরে একদিন ভোরে আমার মেয়ে ও কয়েকজনের সহযোগিতায় বাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হই।”

অভিযোগ অস্বীকার করে বড় ছেলে মো. জাব্বারুল হক (রবিউল) বলেন, “বাড়ির আশপাশের মানুষের কথায় প্ররোচিত হয়ে মা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছেন। মা-কে অবরুদ্ধ বা মারধর করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পারিবারিক বিষয় সমাধানের জন্য তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি প্রায় ১৪-১৫ দিন আমাদের সঙ্গে ছিলেন। পরে নিজেই মেয়ের বাড়িতে চলে যান।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “অনেক দিন ধরেই তাদের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। জাহানারা বেগম ছেলে ও পুত্রবধূদের আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামের অন্য একটি বাড়িতে আলাদা থাকতেন। কিছুদিন আগে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন। তবে পরে আবারও বিরোধ শুরু হয় ছেলে-পুত্রবধূরা মিলেন বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করেন, একপর্যায়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান।”

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে জাব্বারুল হক ও তার ভাই বৈঠকে উপস্থিত হননি।” ছেলেরা মায়ের জমির দলিল আটকিয়ে রেখেছে এবং মায়ের জমি গুলো দখল নিয়ে রেখেছে।

মো. বাবুল হোসেন (মেম্বার) বলেন, জব্বরুলরা অবস্থাশালী পরিবার মায়ের নামে কিছু জমি আছে জাহানারা বেগমের সাথে তার ছেলেদের জমিজমা নিয়েই পারিবারিক বিরোধ। জাহানারা বেগমের নামের যে জমি আছে সে জমি গুলো তাকে দেওয়া হয় না? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাহানারা বেগম তো চাষ করে না, সব চাষাবাদ ছেলেরাই করে। জমি লিখে নেওয়া জন্য ছেলে ও পুত্রবধূরা জাহানারা বেগমকে চাপ সৃষ্টি করে কী না? জানতে চাইলে তিনি বলে এমন কোনো কিছু জানি না।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর কাছে বোয়ালমারী গ্রামের এক মায়ের ওপর ছেলে ও পুত্রবধূর নির্যাতনের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে চাইলে? তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে বিষয়টি আমার জানা নেই।” 

আইনজীবী মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, “মামলার কপিতে সব কিছু বলা আছে এ বিষয়ে কোর্ট থেকে তদন্ত হবে। তখন সব কিছু জানা যাবে।”

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাদিনীর জবানবন্দি গ্রহণ করে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৪১, ৩৪৩, ৩৮৬, ৩৮৭ ও ৫০৬ এর (২) ধারায় অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category