নিজ অফিস কক্ষে খুন হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতের চার সন্তান, পরিবার ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।মানববন্ধনে অংশ নেন শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার চার শিশু সন্তান। সন্তানদের বয়স দেড় থেকে ৯ বছরের মধ্যে।সবচেয়ে বড় কন্যা সন্তান ইফফাত তায়েবা বলেন, মাকে ছাড়া আমার ছোট ভাই-বোনগুলো সারারাত ঘুমায় না। মা আমাদের কত আদর করে ঘুম পাড়াতো। আমরা এখন মাকে কোথায় পাব?
আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিট্যাকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষক। মানববন্ধনে আসা তার সহকর্মীরা বলেন, এই মানববন্ধন আমাদের করার কথা না।এটা করা উচিত ছিল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। একজন সামান্য কর্মচারীর হাতে শিক্ষক খুন হলে নিজ অফিস কক্ষে! অথচ তার কোনো সহকর্মী এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাননি। এই বড় লজ্জার কথা।সমাজ কল্যাণ বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বলেন, এখন থেকে সাত মাস আগে ক্যাম্পাসে খুন হলেন শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহ।সেই খুনের রহস্য এখনো উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি। এরমধ্যেই ম্যামকে খুন করা হলো।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ (বুধবার) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে আসমা সাদিয়ার নিজ কক্ষে ফজলুর রহমান নামের এক কর্মচারী ছুরিকাঘাত করে নিজে গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহননের চেষ্টা চালায়। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।